বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সাত বছরেও আদালতের রায় কার্যকর হয়নি। এ মামলার দুই ধাপের বিচার শেষ হলেও চূড়ান্ত বিচার শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা বলতে পারছে না কেউ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আবরারের পরিবার।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বুয়েটের ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র আবরার এর দুদিন আগে ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। এর জেরে তাকে হত্যা করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার আবরার ফাহাদের কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের বাসভবনে কাউকেই পাওয়া যায়নি। তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে সবাই ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফোনে কথা হয় বাবা বরকত উল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের দেশটাকে গ্রাস করতে চেয়েছিল। আবরার সেটার প্রতিবাদ করেছিল। যে কারণে আবরারকে জীবন দিতে হয়েছে, সেটার বাস্তবায়ন চাই আমরা। দেশকে নিয়ে আবরার ফাহাদের যেই স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ দেখতে চাই।’

আবরারকে হত্যার পর এক মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। ওই রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকেই তিনজন পলাতক। তারা হলেন-মোর্শেদ-উজ-জামান, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি মুনতাসির আল জেমি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এ মামলায় সব মিলিয়ে দণ্ডিত ২৫ আসামির মধ্যে চারজন পলাতক।

বরকত উল্লাহ বলেন, বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগের বিচারাধীন আছে। আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর হয়ে গেল। অথচ রায় কার্যকর হলো না। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচার কাজ শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আবরারের মৃত্যুতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে আবরার ফাহাদকে ভুলে না যায়, এজন্য শহরের একটি সেতু তার নামে নামকরণের দাবি জানাই।